সোনাতলার মেয়ে মিরা সুযোগ পেলেন অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় নারী ফুটবল দলে

ছবি: বাংলা লেন্স

বগুড়ার সোনাতলার মেয়ে মিরা খাতুন বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় নারী ফুটবল দলে সুযোগ পেয়েছে। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এর সদস্য হিসেবে তিনি জাতীয় দলে ১৭ নম্বর জার্সি পরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে দেশের হয়ে লড়তে যাচ্ছে সোনাতলার কন্যা মিরা খাতুন।

মিরা খাতুন সোনাতলা পৌর এলাকার আগুনিয়াতাইড় (উত্তর) গ্রামের পান বিক্রেতা ইউনুস আলী শেখের মেয়ে। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। প্রত্যন্ত গ্রামে বেড়ে ওঠা মিরার ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি ছিল প্রবল আগ্রহ। স্কুল থেকে ফিরে পাড়া-মহল্লার ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে নিয়মিত ফুটবল খেলাই ছিল তার নিত্যদিনের আনন্দ।

সমাজের নানা প্রতিবন্ধকতা ও কটুক্তি উপেক্ষা করেই এগিয়ে গেছেন মিরা। আগুনিয়াতাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াকালীন বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টে উপজেলা পর্যায়ে অংশ নিয়ে নিজের স্কুল দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন। একই সঙ্গে অর্জন করেন শ্রেষ্ঠ গোলদাতার পুরস্কার। তার এই সাফল্য এলাকাজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

পরবর্তীতে জেলা পর্যায়ের বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টেও ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও শ্রেষ্ঠ গোলদাতার স্বীকৃতি পান মিরা। জেলা পর্যায়ে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখে অনেকেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন—একদিন জাতীয় দলে খেলবেন এই প্রতিভাবান কিশোরী। তবে দারিদ্র্য ছিল তার স্বপ্নের পথে বড় বাধা।

অভাব-অনটনের মাঝেও হার মানেননি মিরা। বিভাগীয় পর্যায়ের টুর্নামেন্টেও নিজের নৈপুণ্যে দলের জয় নিশ্চিত করেন। একপর্যায়ে তার প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা বিকেএসপিতে ট্রায়ালের সুযোগ পান তিনি। দীর্ঘ ৮ মাসের কঠোর প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার পর সেখানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান মিরা।

বর্তমানে বিকেএসপির নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে আরও শাণিত করে জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল দলের সদস্য হিসেবে দেশের হয়ে মাঠে নামতে প্রস্তুত তিনি।

মিরার বাবা ইউনুস আলী শেখ বলেন, “মেয়ের প্রতিভাই আমাকে সাহস জুগিয়েছে। শখের মোটরসাইকেল বিক্রি করে মেয়ের ভর্তির টাকা জোগাড় করেছি। আজ যখন শুনি আমার মেয়ে দেশের হয়ে খেলবে, তখন বুকটা গর্বে ভরে যায়।”

তিনি আরও বলেন, “মিরা জাতীয় দলে খেলবে—এই খবর শোনার পর মনে হচ্ছে জীবনের সব কষ্ট সার্থক হয়েছে। সোনাতলাবাসীর কাছে আমার মেয়ের জন্য দোয়া চাই।”

এদিকে মিরার এই অর্জনে স্থানীয় এলাকাবাসী, ক্রীড়ানুরাগী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে মিরা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।

এসএএস/