হাসপাতালে মায়ের বুকফাটা কান্না, ‘আমার বাচ্চাকে মেরে ফেলেছে’

ছবি- সংগৃহীত

মাত্র আড়াই মাস আগে জন্ম হয়েছিল আয়ানের। মায়ের বুকের উষ্ণতা আর পরিবারের স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা শিশুটি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি ছিল হাসপাতালে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসক নির্দেশিত স্যালাইন ও ওষুধ সময়মতো না দেওয়ার অবহেলার কারণেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও ছড়িয়ে পড়েছে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঈদের পরদিন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে আয়ানকে সৃষ্টি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকদিনের চিকিৎসায় তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল। স্বজনদের দাবি, শনিবার রাত পর্যন্ত শিশুটি অনেকটাই সুস্থ ছিল এবং স্বাভাবিকভাবে হাসি-খেলায় সময় কাটাচ্ছিল।

নিহত শিশুর খালা পুতুল অভিযোগ করে বলেন, রাতে ডাক্তার স্যালাইন ও ইনজেকশন লিখে দিয়েছিলেন। আমরা বারবার নার্সদের বিষয়টি বলেছি। কিন্তু তারা সকালে দেওয়ার কথা বলেন। পরে আর সেগুলো দেওয়া হয়নি। সকালে দেখি আমার ভাগ্নে আর বেঁচে নেই।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্তব্যরত চিকিৎসক রাতেই কিছু জরুরি ওষুধ ও স্যালাইন দেওয়ার নির্দেশ দিলেও তা প্রয়োগ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বে থাকা নার্সরা বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। কিন্তু সকাল হওয়ার আগেই নিভে যায় আড়াই মাস বয়সী শিশুটির জীবনপ্রদীপ।

এদিকে হাসপাতালের করিডোরে সন্তানের মৃত্যুতে বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েন মা নিশাত। শিশুটির নিথর দেহ বুকে জড়িয়ে তিনি বারবার বলতে থাকেন, আমার বাচ্চাকে মেরে ফেলেছে। আমার বাচ্চা তো ভালো হয়ে গিয়েছিল।

পরিবারের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, শিশুটির মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এমনকি সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের প্রভাবিত করারও চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সৃষ্টি জেনারেল হাসপাতালের সহকারী ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন বলেন, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শিশুটি হাসপাতালে ভর্তি ছিল। এসে শুনি বাচ্চাটি মারা গেছে। আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে নিয়েছেন। তবে, ভুল চিকিৎসা বা অবহেলার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।

ঘটনার পর পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে নার্সের অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন এস এম নূর ই শাদীদ বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে একমাত্র সন্তানের মৃত্যুর খবর পেয়ে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বাবা আব্দুল আহাদ। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি দেশে ফেরার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বাবার অপেক্ষায় শিশুটির দাফনও বিলম্বিত করা হতে পারে।

এমএআর/