গণশিক্ষা সচিবের গ্রামার বই ৪০ কোটি টাকা বিক্রি কেলেংকারি

ফাইল ছবি

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবের কথিত গ্রামার বই বিক্রি কেলেংকারির ঘটনা এবার সবার মুখে মুখে। বিগত সরকারের সময়ের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজের কথিত গ্রামার বই বিক্রির জন্য লিখিত-অলিখিত নির্দেশনা পাঠিয়েছেন সাখাওয়াৎ হোসেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং শতাধিক প্রধান শিক্ষক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অফিসাররা জানিয়েছেন সাখাওয়াৎ যখন একই মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ছিলেন তখন তিনি একটি কথিত গ্রামার বই লিখে সেটার লেখক হিসেবে অপর একজন হুদাই প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষকের নাম ব্যবহার করেছেন। আবার গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত একটা দপ্তরের নামে বইটি প্রকাশ করিয়েছেন। বইটি গত কয়েকমাস ধরে প্রতিটি একশ টাকা করে বিক্রি করে টাকা পাঠানো হচ্ছে সচিবকে। বইটির গায়ে দাম লেখা ৮০ টাকা। ইংলিশ গ্রামার বইটি তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে বলেও শিক্ষক ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অফিসারদের মতে প্রায় ৪০ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে গত কয়েকমাসে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের সমিতির একাধিক নেতা ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার শিক্ষক সমিতির নেতাদের বলা হয়েছে যেন বইটি বিক্রি করে টাকা পাঠানো হয়। তবে কোনো সরকারি আদেশ জারি করা হয়নি।

মানিকগঞ্জ সদরের একজন শিক্ষক জানান, একজন নারী শিক্ষক ঘন ঘন মন্ত্রণালয়ে যাতায়াত করেন। তিনিও বই বিক্রির সঙ্গে জড়িত।

অভিযোগের বিষয়ে ঈদের ছুটির আাগে সচিবকে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ পাঠালেও কোনো জবাব দেননি। দৈনিক আমাদের বার্তার পক্ষ থেকে তার সঙ্গে সাক্ষাত করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। প্রতিবারই তার দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, ‘বই বিষয়ে কোনা কথা বলবেন না।”

এদিকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পেলে অবশ্যই সরকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে প্রেস উইং আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।

গণশিক্ষা সচিব বিগত সরকারের সময়ের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজের বই বিক্রির জন্য লিখিত-অলিখিত নির্দেশনা পাঠাচ্ছেন। এই নির্দেশনা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের শিক্ষা অফিসগুলোতে দেওয়া হচ্ছে যে, ওই সচিবের বই কিনতে হবে। সরকার গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিতার যে কথা বলছে, তার সঙ্গে এটা সাংঘর্ষিক কি না?

এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, যদি এটা সত্যি হয়ে থাকে, অবশ্যই আমরা এটা নিয়ে কাজ করব। আপনাদের অনুরোধ করবো আমাদের বিস্তারিত জানানোর জন্য। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে আমাদের দিক থেকে সংশ্লিষ্ট সচিবের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করা হবে। তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির দায়ে কারাগারে থাকা সাবেক শিক্ষাসচিব ও মূখ্যসচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী শিক্ষাসচিব থাকাকালে এমন বহু বই লিখে তা কিনতে অফিসিয়াল নির্দেশ দিয়েছিলেন অধস্তন সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে। নিজে কথিত কবিতা লিখে তা নবম শ্রেনির বইয়ে ঢুকিয়েদিয়েছিলেন। সেই খবর শুধু দৈনিক শিক্ষাডটকম-এ প্রকাশ করে রোষানলে পড়তে হয়েছিলো সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান খানকে।

এমএআর/