সোনাতলায় দেড় মাসেও সরেনি ঝড়ে পড়া গাছ, ব্যাহত শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা

ছবি- বাংলা লেন্স

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়নের সাতবেকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ঝড়ে পড়ে থাকা একটি গাছ দেড় মাসেও অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও মাঠে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিকেলে স্থানীয় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। গাছটি অপসারণে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ আগস্ট ঝড়ে বিদ্যালয়ের মাঠে একটি বেজিয়াম গাছ পড়ে যায়। এরপর থেকে গাছটি মাঠে পড়ে থাকলেও এখন পর্যন্ত তা অপসারণ করা হয়নি। গাছটি পড়ে থাকায় শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে মাঠ ব্যবহার করতে পারছে না। অথচ শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার জন্য বিদ্যালয়ের মাঠ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় দুই অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলা লেন্সকে বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে ছেলে-মেয়েরা খেলাধুলা করবে, আনন্দে সময় কাটাবে সেই মাঠেই দেড় মাস ধরে গাছ পড়ে আছে। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এলাকার শিশু-কিশোররাও বিকেলে এ মাঠে খেলাধুলা করত। গাছটি পড়ে থাকায় তারাও আগের মতো মাঠ ব্যবহার করতে পারছে না।

তাঁরা আরও বলেন, শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। মাঠটি দীর্ঘদিন এভাবে পড়ে থাকায় তারা খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই দ্রুত গাছটি অপসারণ করে মাঠটি খেলার উপযোগী করার দাবি জানান তাঁরা।

বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোমিন বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে ঝড়ে গাছটি পড়ে যায়। প্রথমে মৌখিকভাবে উপজেলা শিক্ষা অফিসকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে গাছটি অপসারণের জন্য লিখিত আবেদনও করা হয়েছে। তবে আবেদনটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা তাঁদের জানা নেই।

এ বিষয়ে সোনাতলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইতিয়ারা পারভীন বাংলা লেন্সকে বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন এবং সরেজমিনে পরিদর্শনও করেছেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। বন বিভাগকে অবহিত করে নিয়ম অনুযায়ী গাছটি বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগবে।

তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ দেড় মাস ধরে ব্যবহারে বিঘ্ন ঘটছে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে গাছটি অপসারণ করা হবে এবং শিক্ষার্থীরা আবারও স্বাভাবিকভাবে মাঠে খেলাধুলার সুযোগ পাবে।

এমএআর/