সোনাতলা হাসপাতালে ৪৫ দিনে ৩০ ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা, ভর্তি ১

ছবি- বাংলা লেন্স

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ৪৫ দিনে প্রায় ৩০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বর্তমানে একজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত চিকিৎসা নিতে আসা ডেঙ্গু রোগীদের কেউই স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হননি। তাঁরা অন্য এলাকায় আক্রান্ত হয়ে সোনাতলায় এসে চিকিৎসা নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত হিরন ইসলাম (৩০) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের শালিখা গ্রামের বাবু মণ্ডলের ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি চট্টগ্রামে রিকশা চালাতেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হিরন ইসলাম জানান, চট্টগ্রামে অবস্থানকালে তাঁর প্রথমে জ্বর আসে। প্রাথমিক চিকিৎসায় জ্বর কিছুটা কমলেও পরে আবার ফিরে আসে। এরপর তিনি বাড়িতে চলে আসেন। বুধবার সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষা করালে তাঁর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক দিনের চিকিৎসায় তিনি কিছুটা সুস্থ বোধ করছেন বলে জানান।

সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমীন কবিরাজ বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা শুরু থেকেই করা হচ্ছে। এখানে যেসব ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন, তাঁরা সবাই বাইরে থেকে আক্রান্ত হয়ে আসেন। এখন পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া যায়নি। গত দেড় মাসে প্রায় ৩০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

এদিকে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সোনাতলা পৌরসভার পক্ষ থেকে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ডোবা-নালা ও ময়লা-আবর্জনাযুক্ত স্থান পরিষ্কারের পাশাপাশি ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশা নিধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রামসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণের মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা সম্ভব। পাশাপাশি জ্বর দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমএআর/