জরাজীর্ণ ভবনেই ছয় বছরের ধারাবাহিক সাফল্য, জাতীয়করণের অপেক্ষায় বালুয়াহাট ডিগ্রি কলেজ

ছবি- বাংলা লেন্স

জীর্ণ ভবন, সীমিত অবকাঠামো ও নানা সংকট তারপরও শিক্ষার্থীদের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এগিয়ে চলছে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বালুয়াহাট ডিগ্রি কলেজ। গ্রামীণ জনপদের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি গত ছয় বছর ধরে ডিগ্রি শাখার পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য ফলাফল করে আসছে। অথচ শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য ব্যবহৃত একাডেমিক ভবনগুলোর অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ।

কলেজের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ৬৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশের হার ছিল ৮২ শতাংশ। ২০২০ সালে ৪৬ জনের মধ্যে ৯৫ শতাংশ, ২০২১ সালে ৪৯ জনের মধ্যে ৯৫ শতাংশ, ২০২২ সালে ৭১ জনের মধ্যে ৯৮ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭১ জনের মধ্যে ৭৯ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৬৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশের হার দাঁড়ায় ৯০ শতাংশে। অর্থাৎ সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল ধরে রেখেছে।

তবে সাফল্যের এই চিত্রের আড়ালে রয়েছে অবকাঠামোগত সংকট। ৬ অক্টোবর সরেজমিনে কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, একাডেমিক ভবনগুলোর বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিনের সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন আধুনিক ও নিরাপদ একাডেমিক ভবন, পর্যাপ্ত আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রত্যন্ত এলাকার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে কলেজটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জাতীয়করণ করা গেলে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হতে পারে।

কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আহসান হাবিব মোহন বাংলা লেন্সকে বলেন, “প্রতিষ্ঠানটি যেভাবে সাফল্য অর্জন করে আসছে, সেখানে উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে একাডেমিক ভবন, আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছি।

কলেজের অধ্যক্ষ এটিএম মোস্তফা কামাল বাংলা লেন্সকে বলেন, “সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও আমরা সুনামের সঙ্গে ফলাফল ধরে রেখেছি। সরকারি পর্যায়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জাতীয়করণ করা হলে এলাকার নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরাও উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সহজে পাবে। আমরা ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছি, ভবিষ্যতে শতভাগ পাশের হার অর্জনেরও আশা করছি।

ডিগ্রি শাখায় কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেশি এ বিষয়ে অধ্যক্ষ এটিএম মোস্তাফা কামাল বাংলা লেন্সকে জানান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে ভর্তি কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জিয়াউল ইসলাম শান্তু বলেন, গ্রামাঞ্চলের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এই সাফল্য আরও বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।

ছয় বছরে ৭৯ থেকে ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত পাশের হার অর্জন করা প্রতিষ্ঠানটির সামনে এখন বড় প্রশ্ন সাফল্যের এই ধারাবাহিকতার সঙ্গে কি অবকাঠামোগত উন্নয়নও নিশ্চিত হবে?

বালুয়াহাট ডিগ্রি কলেজ শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; প্রত্যন্ত এলাকার বহু পরিবারের উচ্চশিক্ষার অন্যতম ভরসা। তাই জরাজীর্ণ ভবনের সীমাবদ্ধতা দূর করে নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এ কলেজের সাফল্য আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

এমএআর/