শিখন ঘাটতি পূরণে বিশেষ পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী ববি

ছবি: বাংলা লেন্স

ঢাকায় গণসাক্ষরতা অভিযানের আয়োজনে এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় “রেমিডিয়াল শিক্ষা: চ্যালেঞ্জ ও আগামীর ভাবনা” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১১টায় আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

সভায় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষা খাতকে জাতীয় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন (এনএসএ) অনুযায়ী প্রাথমিক স্তরের অর্ধেক শিক্ষার্থীই মৌলিক দক্ষতায় পিছিয়ে রয়েছে। তিনি জানান, বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতায় বাস্তব পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক বলে মনে হয়েছে। শিখন ঘাটতি পূরণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিশুদের মৌলিক শেখার ভিত্তি দৃঢ় করতে সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক শিক্ষার্থী তৃতীয় শ্রেণিতে উঠলেও সেই শ্রেণির উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে সরকার বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আরও মানসম্মত করে শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সমমানের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধূরী। শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন গণসাক্ষরতা অভিযানের উপ-পরিচালক তপন কুমার দাশ।

অনুষ্ঠানে “রেমিডিয়াল শিক্ষার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ: পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, বর্তমান চ্যালেঞ্জ, সুযোগ ও অভিজ্ঞতার পর্যালোচনা” শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেভ দ্য চিলড্রেনের এডুকেশন লিড শাহীন ইসলাম, সিনিয়র ম্যানেজার-এডুকেশন তাহসিনা তাইমুর এবং অধ্যাপক মুরশিদ আখতার। প্রবন্ধে বলা হয়, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের শিশুদের মধ্যে মৌলিক সাক্ষরতা ও গণিত দক্ষতায় পিছিয়ে পড়ার হার বেশি। কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও জামালপুরের মাদারগঞ্জে পরিচালিত প্রতিকারমূলক শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি, শিক্ষক দক্ষতা এবং অভিভাবক সম্পৃক্ততায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে।

গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, দৈনিক রেমিডিয়াল ক্লাস, টিচার লার্নিং সার্কেল, অভিভাবক সভা এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের ফলে শিক্ষার্থীদের পড়া ও গণিত দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া শেখার ঘাটতিকে জাতীয় শিক্ষা চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করে বিদ্যালয়ে নির্ধারিত রেমিডিয়াল সময় চালু, শিক্ষক প্রশিক্ষণে রেমিডিয়াল পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত এবং নিয়মিত শেখার অগ্রগতি মূল্যায়নের সুপারিশ করা হয়।

সভায় আরও বক্তব্য দেন ড. মনজুর আহমেদ, জেরিন মাহমুদ হোসেন, সুমন সেনগুপ্ত এবং গোধূলী ইউএলসি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সোহানা। এছাড়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষা কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার দেড় শতাধিক প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এসএএস/