সোনাতলায় আলিফ ক্লিনিকে সিজার, চার দিন পর শজিমেকে স্থানান্তর বাঁচলেন না প্রসূতি

ছবি- প্রতিনিধি

বগুড়ার সোনাতলা পৌর এলাকার ঘোড়াপীড়ে ‘আলিফ ক্লিনিক’ এ সিজারের (অপারেশন)মাধ্যমে ফুটফুটে ছেলে সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর মোছা.লতিফোন বেগম(৪২)নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। আলিফ ক্লিনিকের চিকিৎসক ও কতৃপক্ষের অবহেলায় রোগির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের। মৃত লতিফোন বেগম গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বাজিতনগর গ্রামের মো. নজরুল ইসলামের স্ত্রী।

স্থানীয় ও প্রসূতির স্বজনরা জানান,গত ১৪ অক্টোবর বাজিতনগর গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী’র প্রসববেদনা অনুভব হলে তাকে বগুড়ার সোনাতলায় আলিফ ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। সেখানে সিজারে সন্তান জন্মের পর থেকেই চিকিৎসক ও ক্লিনিক কতৃপক্ষের অবহেলায় রোগির পেটফুলে অবস্থা খারাপ হতে থাকে।

চারদিনের মাথায় ক্লিনিক কতৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তরিঘরি করে রোগি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সেখানে ২০ অক্টোবর ভোরে রেগির মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে প্রসূতির স্বামী নজরুল ইসলাম জানান, আজ থেকে ছয়দিন আগে আলিফ ক্লিনিকে আমার সন্তান সম্ভাবা স্ত্রীকে ভর্তি করে দিয়ে বাড়ীতে সিজারের টাকা ও প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড় নিতে আসি। ওই ক্লিনিকের মালিকানা শেয়ারে থাকা আমার পরিচিত মোমিন নামের এক ছেলে রয়েছে।

সিজার করা বিষয়ে সব কথা তার সাথেই হয়। ঘন্টাখানেক পড়ে ক্লিনিকে গিয়ে দেখি সিজার করা হয়ে গেছে। জন্ম হয় ছেলে সন্তানের। কয়েক ঘন্টা পর রোগির পেটের সমস্যার কথা ক্লিনিক কতৃপক্ষকে বললে তারা কিছু চিকিৎসা দেন এবং বলেন কোন সমস্যা নেই। পরেরদিন রোগির অবস্থা আরো খারাপ হয়।

এভাবে চারদিনের মাথায় রোগি একেবারে নিস্তেজ হয়ে গেলে তারাতারি করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান,রোগির অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে,আরো আগে আনলে ভালো হত। এরপর আজ ২০ অক্টোবর রোগির মৃত্যু হয়েছে। আলিফ ক্লিনিকের চিকিৎসক ও কতৃপক্ষের অবহেলায় আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

এ ব্যাপারে ক্লিনিক কতৃপক্ষের নয়ন মিয়া জানান, ডাঃ বখতিয়ার রোগির সিজার করেছে। সিজারের চাদিনের
মাথায় রোগির অবস্থা খারাপ হলে তাকে আমরা বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করে দিয়েছি। শুনেছি
আজ নাকি রোগির মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ শারমিন কবিরাজ জানান,
বিষয়টি আমি শুনেছি এবং এক মহিলা মৌখিক অভিযোগ করেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে
আলোচনা করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

 

এমএআর/