আন্তর্জাতিক ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড কম্পিউটেশন কনফারেন্স

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) দুদিনব্যাপী “৩য় আন্তর্জাতিক ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড কম্পিউটেশন কনফারেন্স (আইসিএমএসসি-২৬)” শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ফর কমপিউটেশনাল ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স (বিএসিএমএস) আয়োজিত এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “গ্রিন কেমিস্ট্রি এন্ড সাসটেইনেবল ইনোভেশন: ফ্রম মলিকুলার ডিজাইন টু ক্লিন টেকনোলজি”।

রবিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম-২ এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব দুসেলদর্ফের প্রফেসর ড. ক্রিস্টোফ জানিয়াক। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির।

বক্তারা বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এবং দেশি-বিদেশি গবেষকদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াবে। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি নতুন জ্ঞান অর্জন ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভিসি প্রফেসর ড. এনামউল্যা তার বক্তব্যে বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মানসম্মত গবেষণার বিকল্প নেই। কম্পিউটেশনাল কেমিস্ট্রি আধুনিক গবেষণায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং ইতোমধ্যে এ ক্ষেত্রে তিনজন বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন।

দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে কী-নোট লেকচার, প্লেনারি টক, টেকনিক্যাল সেশন, পোস্টার উপস্থাপনা ও প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। দেশ-বিদেশের প্রায় ৩০০ জন গবেষক, শিক্ষক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও শিক্ষার্থী এতে অংশ নিচ্ছেন।

অনুষ্ঠানের গেস্ট অব অনার প্রফেসর ক্রিস্টোফ জানিয়াক আজকের এই আন্তজার্তিক কনফারেন্সে তাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা বলেন, বর্তমান বিশ্বে গবেষণার পরিধি ও গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মানসম্মত গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে কম্পিউটেশন ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ, বায়োলজিক্যাল সায়েন্সসহ সব কিছুর সাথে যুক্ত। বিশেষ করে কম্পিউটেশনাল কেমিস্ট্রি বর্তমানে বৈজ্ঞানিক গবেষণার এক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ, নতুন উপকরণ উদ্ভাবন এবং গবেষণার গতি ত্বরান্বিত করতে এর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, কম্পিউটেশনাল কেমিস্ট্রির ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ইতোমধ্যে তিনজন বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন, যা এই ক্ষেত্রটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও গুরুত্বকে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এর মাঝে একজনকে আমি চিনি, উনি কানাডার টরেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর। বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশের ক্ষেত্রে এক্সপেরিমেন্টাল মেথডের পাশাপাশি কম্পিউটেশনাল বিশ্লেষণ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। গবেষণার মান উন্নয়ন এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টিতে এই পদ্ধতির কার্যকর ব্যবহার অপরিহার্য। পরিশেষে তিনি প্রফেসর ক্রিস্টোফ জানিয়াকসহ এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং এর মাধ্যমে দেশের গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কনফারেন্সের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষক, গবেষক, শিল্পখাতের সাথে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী, নীতিনির্ধারক ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আন্তজার্তিক প্লাটফর্ম তৈরি করা। পাশাপাশি গ্রিন কেমিস্ট্রি, সাস্টেইনেবল সিন্থেসিস, রিনিউএবল এনার্জি, অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস, ক্লিন টেকনোলোজিস, এনভায়ার্ণমেন্টাল রেমিডিয়েশন, সার্কুলার ইকনোমিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনী ধারণা বিনিময়ের জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে কী-নোট লেকচার, প্লেনারি টক, টেকনিক্যাল সেশন, পোস্টার উপস্থাপনা এবং প্যানেল আলোচনা সহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।

আন্তর্জাতিক এই কনফারেন্সে দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা গবেষক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৩০০ জন অংশগ্রহণ করেন।