সোনাতলায় হিন্দু গৃহবধূর লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ

ছবি: বাংলা লেন্স

বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী মরদেহ নিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।

নিহত গৃহবধূ সীমা রানী (২৩) সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের চরপাড়া মাঝিপাড়া গ্রামের নিশি প্রামানিকের মেয়ে। প্রায় ৩-৪ বছর আগে তার বিয়ে হয় গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের মহিষাবান গ্রামের দেবেন্দ্র চন্দ্র পালের ছেলে অর্জুন চন্দ্র পাল (৩২)-এর সঙ্গে।

স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর প্রথম দিকে দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তীতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন অতিরিক্ত যৌতুকের দাবিতে সীমার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। গত শুক্রবার এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সীমাকে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে কাপড় দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সীমার মৃত্যুর খবর তাদের সরাসরি জানানো হয়নি। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে গাবতলীতে গিয়ে বাড়ির বারান্দার মেঝেতে সীমার মরদেহ দেখতে পান।
খবর পেয়ে শনিবার সকালে গাবতলী থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে তা গ্রামে এনে স্বজন ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেন এবং সোনাতলা-গাবতলী সড়ক অবরোধ করে দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী অর্জুন চন্দ্র পাল ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।

স্বজনদের অভিযোগ, তারা মামলা করতে গেলে গাবতলী থানা পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।

এ বিষয়ে গাবতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিব হোসেন বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এসএএস/